Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/assafa/public_html/index.php on line 21
Assafa Islamic Center, Inc. 172 Allen Street, New York, NY 10002 (www.AssafaIslamicCenter.org)

 

Donate by mail:                  

Check payable to:-----------> Assafa Islamic Center Inc.

                                         172 Allen Street

                                        New York, NY 10002 

 

 

Please donate here for the New Assafa Masjid 

হাত উঠানো ও হাত বাধার পদ্ধতি

আল-কোরান ও ছহিহ হাদিসের আলোকে নামায শিক্ষা প্রশিক্ষন কোর্স

১ম দিন, ২য় পাঠ

হাত উঠানো ও হাত বাধার পদ্ধতি

মুফতি লুৎফুর রহমান কাসিমী

 

তাকবীরেতাহরীমার সময় হাত উঠানোর পদ্ধতি

হাদিস-১ 

إذا صلى كبر ورفع يديه

তিনি (সঃ) যখন নামাজ পড়তেন, তখন তাকবীর দিতেন এবং হাত উঠাতেন….

বুখারী-৭৩৭

 

হাদিস-২

كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا قام إلى الصلاة استقبل القبلة ورفع يديه وقال الله أكبر

তিনি (স) যখন নামাযে দাড়াতেন তখন কিব্লামুখী হয়ে হাত উঠাতেন এবং আল্লাহ আকবর বলতেন।

সুনান ইবনু মাজাহ- ৮০৩

হাদিস-৩

كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِإِذَا افْتَتَحَ الصَّلاةَ

তিনি (স) যখন নামাজ শুরু করতেন তখন কাধ পর্যন্ত দু’হাত উঠাতেন......

বুখারী-৭৩৫

হাদিস-৪

قام إلى الصلاة رفع يديه حتى كانتا بحيال منكبيهوحاذى بإبهاميه أذنيه ثم كبر

তিনি (স)যখন নামাজ পড়তেন তখন হাত দু’টি  কাঁদের উপরে উঠাতেন এবং বদ্ধাংগুলি কান পর্যন্ত পোছাতেন..

আবু দাউদ-৬২১

হাদিস-৫

إذاكبر رفع يديه حتى يحاذي بهما أذنيهوإذا ركع رفع يديه حتى يحاذي بهما أذنيه وإذا رفع رأسه من الركوع فقال سمع الله لمن حمده

তিনি (স) যখন তাকবীর দিতেন তখন কান পর্যন্ত দু’হাত ঊঠাতেন ...

মুসলিম-৩৯৩/৩৯৪

হাদিস-৬

كان إذا افتتح الصلاة رفع يديه على قريب من أذنيه ثم لا يعود

তিনি (স) যখন তাকবীর দিতেন তখন হাত দু’টি কানের কাছাকাছি উঠাতেন...

আবু দাউদ-৬৪০

হাদিস-৭

إذا كبر لا فتتاح الصلوت رفع يديه حتي يكون ابها ما ه شحمتي اذنيه

যখন তিনি (সঃ) নামায শুরু করার জন্য তাকবীর দিতেন এবং দু’হাত উঠাতেন তখন তাঁর দু’টি বদ্ধাংগুলি কানের লতি পর্যন্ত উঠে যেত ...

আবু দাউদ-৬২৭

হাদিস-৮

بهما فروع أذنيه  إذا كبر رفع يديه حتى يحاذي

তিনি (স) যখন তাকবীর দিতেন তখন দু’হাত কানের উপরি ভাগ পর্যন্ত উঠাতেন

মুসলিম-৮৬৫

হাদিস-৯

يرفع يديه إذا كبر وإذا ركع وإذا رفع رأسه من الركوع حتى يبلغ بهما فروع أذنيه

যখন তাকবীর (তাহরীমা) দিতেন এবং রুকু থেকে মাথা উঠাতেন তখন দু’টি হাত কানের উপরি ভাগ পর্যন্ত উঠাতেন।

 আবু দাউদ-৬৩৫

হাদিস-১০

إذا قمتم إلي الصلوت فارفعو ايديكم و لا تخا لفوا إذا نكم ثم قولو ا الله اكبر .....و إن لم تزدو ا علي التكبير أجزاتكم

মহানবীর নির্দেশ; তোমরা যখন নামায পড় তখন তোমদের হাতগুলো কান বরাবর উঠাও...।

তাবরানী-৩/২১৮

পর্যালোচনাঃ

১। উপরের হাদিস ১ ও ২ তে শুধুমাত্র হাত উঠানোর কথা এসেছে। (হাত শব্দের আরাবি শব্দটি হাইলাট করা আছে)। 

২। পরবর্তী (৩-১০) হাদিসগুলো থেকে প্রমানিত হলো যে তাকবীরে তাহরীমার সময় মহানবী (সঃ) তিন ভাবে হাত উঠিয়েছেনঃ

এক. কাধ পর্যন্ত (হাদিস ৩ ও ৪ এর হালাইটেড শব্দ)

দুই. কানের কাছাকাছি অথবা কানের লতি পর্যন্ত (হাদিস ৫, ৬ ও ৭ এর হালাইটেড শব্দ) এবং

তিন. কানের উপরি ভাগ পর্যন্ত (হাদিস ৮,৯ ও ১০ এর হালাইটেড শব্দ)।

৩। হাদিস বিশারদগন উপরোক্ত হাদিস সমূহকে ছহিহ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

৪। হানাফি মাজহাবে কানের লতি থেকে উপর পর্যন্ত হাত উঠানো সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য সুন্নাত পদ্ধতি। তাতে একি সাথে বেশীর ভাগ হাদিসের (হাদিস ৪-১০) উপর আমল হচ্ছে।

৫। অন্যান্য মাজহাবে কেউ শুধু কাঁধ বা কানের লতি পর্যন্ত হাত উটানোকে সুন্নাত হিসেবে গ্রহন করেছেন।

৬। শেখ আলবানিসহ যারা কোন মাযহাবের অনুসারী নন তারা কাঁধ ও কান পর্যন্ত হাত উটানোর দু’টি পদ্ধতিকেই সঠিক মনে করেন।  (দেখুন শেখ আলবানির ‘রাসুলের নামাজ-৩৫)

 

 

হাত বাধার পদ্ধতি

নির্দেশনা

১। নীচের হাদিস সমূহ দু’ভাগে বিভক্ত;

১ম ভাগের হাদিস সমূহে শুধুমাত্র মহানবী (স) কিভাবে হাত বাধতেন তার বর্ণনা।

২য়  ভাগে রয়েছে হাত কোথায় রাখতেন তার বর্ণনা। এবং ২য় ভাগের হাদিস সমূহের প্রত্যেকটিই উছূলে হাদিসের মানদণ্ডে ছহিহ হিসেবে সকলের (মুহাদ্দিসগন) নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। অর্থাৎ এ হাদিস সমূহের উপর দুর্বলতার অভিযোগ রয়েছে। কেউ বলেছেন গ্রহণ করা যাবে আবার কেউ বলেছেন গ্রহণ করা যাবেনা। হাদিসের (সনদের) দুর্বলতা বেশী হলে গ্রহণ করা যাবেনা বরং তলনামুলক ভাবে যে হাদিসটি সনদের দিক থেকে বিশুদ্ধ সেটি গ্রহণ করতে হবে।

হাদিস-১

عن سهل بن سعد قال

كان ناس يؤمرون أن يضع الرجل اليد اليمنى على ذراعه اليسرى في الصلاة قال أبو حازم لا أعلمه

 إلا ينمي ذلك إلى النبي صلى الله عليه وسلم قال إسماعيل ينمى ذلك ولم يقل ينمى

নামাযে লোকদেরকে ডান হাত বাম বাহুরউপর রাখার নির্দেশ দেয়া হত ...

বুখারী-২১০, নাসায়ী-১/১৪১, দারকুতনী-১০৭, বায়হাকী-২/২৮, ১/২১০

হাদিস-২

আ’ছিম ইবনু কোলাইব (রা) বলেন;

رأيت النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يصلي ، فأخذ شماله بيمينه . ولفظ مسلم

ثم وضع يده اليمنى على اليسرى ... الحديث

আমি মহানবীকে (স) দেখেছি যে, নামাযে ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরেছেন। মুসলিমের বর্ণনায়; তিনি (স) ডান হাত বাম হাতের উপর রেখেছেন।

  আহমাদ-৫/৩৩৬, মুওয়াত্তা-১/১৭৪, আবু উয়ানাহ-২/৯৭, বায়হাকী-২/২৮,১৭৮

হাদিস-৩

وائل بن حُجر رضي الله عنه قال عن

قلت : لأنظرن إلى صلاة رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كيف يصلي ؛ فنظرت إليه : فقام ، فكبَّر ،ورفع يديه حتى حاذتا أذنيه ، ثم وضعيده اليمنى على ظهر كفه اليسرى والرسغ والساعد

ওয়াইল ইবনু হুজর (রা) বলেন, অবশ্যি আমি রাসুলুল্লাহ (স) কিভাবে নামায পড়েন তা প্রতক্ষ্য করতাম। অতপর আমি দেখলাম যে, তিনি নামাযে দাড়ালেন, তাকবীর দিলেন, হাত দু’টি কানের কাছাকাছি ঊঠালেন অতপর ডান হাত বাম হাতের পিঠ, কব্জি ও বাহুর উপর রাখলেন......   আবু দাউদ-১/১১৫, নাসায়ী-১/১৪১, দারিমী-১/৩১৪, ইবনু খুজাইমাহ-২/৫৪, ৪৮০,২৪৩, ইবনু হাব্বান-৪৮৫, বায়হাকী-২/২৭,২৮,১৩২, আহমাদ-৩১৮

হাদিস-৪

كان صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يضع اليمنى على ظهر كفه اليسرى والرسغ والساعد

واضعاً يمينه على شماله

وقد أخرجه ابن أبي شيبة عن وكيع بزيادة

تحت السرة

 তিনি (স) ডান হাত বাম হাতের পিঠ, কব্জি এবং বাহুর উপর রাখতেন।

উমদাতুর রিআয়াহ -১/১৩৫

হাদিস-৫

زائدة عن عاصم بن كليب عن أبيه عن وائل بلفظ

وضعيده اليمنى على ظهر كفه اليسرى والرسغ والساعد...

ওয়াইল থেকে বর্ণীত,  তিনি (স) ডান হাত বাম হাতের পিঠ, কব্জি এবং বাহুর উপর রাখতেন

আহমাদ-৪/৩১৯, বায়হাকী-২/৩০, ১/২১২

হাদিস-৬

قَبِيْصَةَ بن هُلْب عن أبيه قال

كان رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَؤُمُّنا ، فيأخذ شماله بيمينه

কাবিছা বিন হুলব তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন; রাসুলুল্লাহ (স) নামাজ পড়াতেন এবং ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরতেন

তিরমিজী-২/৩২, ইবনু মাজাহ-১/২৭০, আহ মাদ-৫/২২৫ এই হাদিসটি ‘হাসান’

হাদিস-৭

وقد رواه سفيان الثوري عن سماك بلفظ

সুফিয়ান সাউরী সিমাক থেকে বর্ণনা করেন;

واضعاً يمينه على شماله

ডান হাত বাম হাতের উপর রাখতেন

 বায়হাকী-২/২৯, দারকুতনী-১০৭

হাদিস-৮

عن عبد الله بن مسعود

أن النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كان يأخذ شماله بيمينه في الصلاة

আব্দল্লাহ ইবনু মাসুউ’দ (রা) থেকে বর্ণিত; মহানবী (স) নামাজের মধ্যে ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরতেন

দারকুতনী-১০৬

দেখুন, উপোরক্ত হাদিস সমূহে কোথায় হাত রাখতে হবে, বুকের উপর, না নাভীর উপর অথবা নাভীর নীচে তার কোন উল্লেখ নাই। কিন্তু এ কথা সুস্পষ্ট যে মহানবী (স) ডান হাত দিয়ে বাম হাতের তালু, কব্জি ও বাহু ধরতেন তথা ডান হাতের উপর বাম হাত রাখতেন।

 

হাত কোথায় রাখবেন?

১। নাভীর নিচে ২। নাভীর উপরে ৩। বুকের উপর (দুর্বল)

 

নাভীর নীচে হাত বাধার দলিল

হাদিস-১

عن علي رضي الله عنه قال

 إن من السنة في الصلاة وضعَ الكَفِّ على الكف تحت السُّرَّة

নিশ্চয় নামাজের মধ্যে সুন্নাত হল নাভির নীচে কব্জির উপর কব্জি রাখা 

আবু দাউদ-১/২০, দারকুতনী-১০৭, বায়হাকী-২/৩১, আহমাদ; ফিমাসাইল ইবনু আব্দুল্লাহ-১/১১০

হাদিস-২

عن علي رضي الله عنه قال

من سنة الصلوت وضع اليمين علي الشمال تحت السرة

নামাজের মধ্যে সুন্নাত হল নাভির নীচে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখা

 মুসনাদ আহমাদ ১/১১০, দা্নকুত্নী-১/২৮৬, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী-২/৩১, মুছান্নাফ ইবনু আবি শায়বাহ-১/৩৯১

হাদিস-৩

عن وايل بن حجر عن ابيه قال رايت النبي صلي الله عليه وسلم وضع يمينه علي شماله في الصلوت تحت سرته

ওয়াইল ইবনু হুজর  (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন; আমি দেখেছি মহানবী (স) নামাজের মধ্যে নাভীর নীচে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখলেন।

  মুছান্নাফ ইবনু আবি শায়বাহ-৩৯৫৯ ১ম/২৯০পষ্টা

এই হাদিসের সকল বর্ণনাকারী ‘সিকাহ’-বিশস্ত।

১। তিরমিজী শরিফের ভাষ্যকার আবুত তায়্যিব সিন্দি (র) বলেছেন, এই হাদিস ‘সনদ’ ও মতনের দিক দিয়ে ছহীহ। তাই এ হাদিস দলিল হিসেবে অবশ্যি গ্রহণযোগ্য।

২। শায়খ আবিদ সিন্দি (র) ‘তাওয়ালিউল আনওয়ার’ নামক কিতাবে লিখেছেন যে, এই হাদিসের সকল বর্ণনাকারী ‘সিকাত’-বিশস্ত।

৩। আল্লামা জা’ফর আহমদ উসমানী (র) বলেছেন, এই হাদিসের সকল বর্ণনাকারী মুসলিম শ রীফের বর্ণনাকারী, একমাত্র মুসা বিন উমাইর নাসায়ী শরীফের বিশস্ত বর্ণনাকারীদের একজন। দেখুন- ই’লাউস সুনান  ২/১৯৯

৪। কাসিম বিন কুতলুবুগা বলেছেন, এই হাদিসের সনদ অত্যন্ত মজবুত (দুর্বলতা মুক্ত)।

৫। আল্লামা কায়িম সিন্দি (র) বলেছেন, যারা এই হাদিসে ‘তাহতাস সুররাহ’ –নাভীর নিচে কথাটি অতিরিক্ত বলেন, তা অবশ্যই ইনসাফ বিরোধী। কারন, আমি নিজে ‘মুসান্নাফ ইবনু আবি শায়বাহ’ এর সহীহ নুসখাতে তা পেয়েছি। শুধু তাই নয় বেশির ভাগ নুসখাতে এটি রয়েছে বিধায় আল্লামা নিমভী স্বীকার করেছেন সবকটি ছহীহ নুসখাতে এই কথাটি বিদ্যমান। মক্কা শরীফের ইমাম শেখ মুফতি আব্দুল কাদির এর নুসখাতেও তা সংরক্ষিত রয়েছে। ই’লাউস সুনান-২/১৯৯ পষ্টা।

৬। শায়খুল হিন্দ মাহমদুল হাসান (র) প্রমান করেছেন যে আব্দুল খালিক আফগানীই প্রথম মুসান্নাফে ইবনু আবি শায়বার পাক-ভারতের নুসখাহ সমূহ থেকে নতুন সংস্করণে ‘তাহতা ছুররাতিহী’ – নাভীর নীচে কথাটি হাদিস থেকে উঠিয়ে নিয়েছেন।

হাদিস-৫

 عن إنس قال من اخلاق إلنبو ت ثعجيل ألافطار و تاخير ألسحور و ضع يمينك علي شمالك في الصلوت تحت ألسرت

আনাছ (রা) থেকে বর্ণীত, নবুওয়াতী চরিত্রের বেশিষ্ট হল; তাড়াতাড়ি ইফতার করা, সেহরি দেরীতে করা ও নামাজের মধ্যে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখা নাভীর নীচে বাধা

 সুনানুল কুব্রা লিল বায়হাকী ১/৩৮৩,  ইবনু হাজম ফিল মুহাল্লা-২/৩০

হাদিস-৬

عن ابي هريرة رض قال أخذ الأكف علي الأكف في الصلوت تحت السرة

আবু হুরায়রাহ (রা) নামাজের মধ্যে নাভির নীচে কব্জির উপর কব্জি রাখতে হবে। 

আবু দাউদ-৭৫৮।

 

১। উপরোক্ত হাদিস সমূহে মারফু’ হাদিসের হুকুম প্রযোজ্য। তাদরীবুর রাওয়ী-৬২।

২। জমহুর মুহাদ্দিসগনের সুস্পষ্ট কথা হল ছাহাবাদের কথা যদি ‘মিনাস সুন্নাতি’, ‘নুহীনা আ’ন কাজা’,  ‘ঊ’মিরনা বিকাজা’ ও ‘মিন আখলাকিন নবুওয়াতি’ বলে বর্ণিত হয় তা হলে সে হাদিস সমূহ ‘মারফু’ হিসেবে গন্য।

৩। যদিও নীচের দু’টি হাদিসের সনদে আব্দুর রাহমান বিন ইসহাককে ইমাম আহমদ (র)দুর্বল বলেছেন তবুও এটি অন্যান্য সাওয়াহিদ (সমর্থিত হাদিস)এর কারনে ‘হাসান’ হাদিসের অন্তর্ভুক্ত।

৪। হাফিয ইবনু হাজার আ’স্কালানী (র) বলেছেন মুসনাদে আহমদের হাদিস নির্ভরযোগ্য।

৫। আল্লামা সুয়ুতী (র) বলেছেন, মুসনাদে আহমদের সকল হাদিস গ্রহণযোগ্য।

৬। আল্লামা হাইছামী (র) বলেছেন, ‘জাওয়াইদে মুসনাদে আহমদে’র হাদিস আছাহুছ ছাহীহান- সবচেয়ে ছহীহ।

৭। আল্লামা আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ঈ’জলী বলেছেন, আব্দুর রাহমান ইবনু ইসহাকের হাদিস নেয়া যাবে – জা’ইজুল হাদিস । তাই হাদিসটি ‘হাসান’ এর অন্তর্ভুক্ত।

৮। ইমাম ইবনুল কায়্যিম (র) ইবনু আবী শায়বাহ থেকে হযরত আলী (রা) এর হাদিসকে ‘ছিহাহ’ বলেছেন। দেখুন- খাজাইনুস সুনান – ৩৩৬

হাদিস-৭

عن الحجاج بن حسان قال سمعت أبا مجلذ إو سالته كيف يضع؟ قال يضع با طن كف يمينه علي ظاهر كف شماله و يجعلهما أسفل عن سرة

হাজ্জাজ বিন হাসসান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন; আমি শুনেছি অথবা জিজ্ঞেস করেছি যে, কিভাবে হাত রাখতে হবে? তিনি বললেন, ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের উপর রেখে নাভীর নীচে হাত বাধবে 

 এ হাদিসটির সনদ ছহিহ। এ হাদিসটির সকল বর্ণনাকারী বিশশ্ত।  ইবনু আবি শায়বাহ-১/৯০,৯১,৩৯৬৩

হাদিস-৮

عن ربيع عن أبي معشر عن ابراهيم قال يضع يمينه علي شماله في الصلوت تحت السرة 

ইব্রাহিম থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, নামাজের মধ্যে নাভির নীচে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখবে। ‘ইস্নাদুহু হাসান’ –হাদিসের সনদটি সুন্দর- উত্তম ।  আসার আসসুনান-১/৭১, আসারু মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান-২৫, ইলাউস সুনান-২/৯২

 

 

 

 

নাভীর উপরে / বুকের উপর হাত বাধার দলিল

কোন ছহিহ হাদিসে বুকে হাত বাধার কথা প্রমানিত নয়। যে হাদিস সমূহ দলিল হিসেবে উপস্থাপন করা ১) তা হয়ত বুকে হাত বাধার দলিলই নয় ২) অথবা হাদিস সমূহ অত্যন্ত দুর্বল। এ জন্য চার মাজহাবের কোন ইমাম বুকের উপর হাত বাধা সুন্নাত বলেন নাই।  নিম্নে নাভীর উপরে ও বুকে হাত বাধার দলিল সমূহ পর্যালোচনা সহ পেশ করা হলঃ

দলিল -১

كان الناس يؤمرون أن يضع الرجل يده اليمنى على ذراعه اليسرى في الصلاة

নামাজের মধ্য ডান হাত বাম হাতের বাহুর উপর রাখার জন্য লোকদেরকে নির্দেশ দেয়া হত। বুখারী - ২১০  

লক্ষ্য করুন, এ হাদিসের কোথাও বুকে হাত বাধার কথা নেই। যদিও এ হাদিসটি বুকে হাত বাধার প্রমান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকার ইবনে হাজার আস্কালানী (র) ফাতহুল বারীতে বলেছেন; বাহুর কোন জায়গায় হাত রাখতেন তা হাদিসে অস্পষ্ট। আবু দাউদ ও ওয়াইল ইবনু হুজর এবং নাসায়ী বর্ণীত হাদিস স্পষ্ট করেছে যে মহানবী (স) ডান হাত বাম হাতের পিঠ, কব্জি ও বাহুর উপর রাখতেন। একই কথা আল্লামা শাওকানী (র) ‘নাইলুল আওতার’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

দলিল-২

رأيت علياً رضي الله عنه يمسك شماله بيمينه على الرسغ فوق السرة

ইবনু জারীর জাবিয়ী তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন; আমি আলী (রা) কে কব্জিতে ডান হাত দিয়ে বাম হাতকে ধরে নাভীর উপর রাখতে দেখেছি। হাদিসটি মাওকুফ

  আবু দাউদ-৬৪৫

১। নাভীর উপর হাত রাখার এই হাদিসটিকে অনেকে দুর্বল বলেছেন।

২। এ হাদিসে নাভির উপর হাত বাধার কথা এসেছে। বুকের উপর হাত বাধার কথা বলা হয়নি। তারপরও বুকের উপর হাত রাখার দলিল হিসেবে পেশ করা হচ্ছে!

৩। আলী (রা) থেকে ‘কাওলী হাদিস’ এসেছে এটি এর বিপরীত। তিনি নাভীর নীচে হাত বাধাকে সুন্নাত বলেছেন। হাদিস শাস্ত্র নীতিমালা অনুযায়ী ‘কাওলী হাদিস’ দলিল হিসেবে ‘ফি’লী হাদিসে’র চেয়ে শক্তিশালী। সুতরাং এ হাদিস আগ্রহনযোগ্য

৪। এই হাদিসের সনদের মধ্যে ‘ইজতিরাব’ – একাধিক সমস্যা রয়েছে।

৫। ইমাম বুখারী (র) আত-তারিখুল কাবীরে এ হাদিসকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে সাব্যস্থ করেছেন।

৬। আল্লামা ইবনু কাসীর সুরা কাওসারের তাফসীরে বলেছেন এ হাদিসটি ছহিহ নয়।

দলিল-৩

عن وايل بن حجر قال صليت مع رسول الله فوضع يده اليمني علي اليسرى علي صدره

ওয়াইল ইবনু হুজর থেকে বর্ণিত, তিনি আমি রাসুলুল্লাহ (স) এর সাথে নামায পড়েছি।  অতপর তিনি (স) তাঁর ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে বুকের উপর বাধলেন

 ইবনু খুজায়মাহ-১/৪৭৯, নাইলুল আওতার-৯২

১। এই হাদিসটি শাফী’ মাজহাবে নাভীর উপর হাত রাখার দলিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইমাম শাওকানী (র) বলেছেন, শাফী মাজহাবের জন্যে এটা দলিল হতে পারেনা।

২। শেখ নাছির উদ্দিন আলবানি নিজে এই হাদিসের সনদকে দুর্বল বলেছেন। কারন, বর্ণনাকারীদের মাধ্যে মুয়া’ম্মাল ইবনু ইসমাইল ভূলে যাওয়ার দুষে অব্যস্থ। দেখুন- শেখ আলবানীর ‘আছলু ছিফাতু ছালাতুন নবী’ (স) ।

৩। এ হাদিসটি বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হয়েছে যার মধ্যে علي صدره-‘বুকের উপর’ কথাটি্র  উল্লেখ নাইঃ

  • ইমাম আহমদ (র), মুয়া’ম্মাল ইবনু ইসমাইল এর সাথী বর্ণনাকারী সুফিয়ান সাউরী (র) থেকে বর্ণনা করলেও علي صدره-‘বুকের উপর’ কথাটির কোন উল্লেখ করলেও নাই।
  • ইমাম নাসাঈ (র) ও আহমদ (র) জায়েদার তারীক থেকে বর্ণনা করলেও علي صدره-‘বুকের উপর’ কথাটির কোন উল্লেখ নাই।
  • ইমাম আবু দাউদ (র) বিশীর ইবনুল মুফাজ্জাল এর তারীক থেকে বর্ণনা করলেও علي صدره-‘বুকের উপর’ কথাটির কোন উল্লেখ নাই।
  • ইমাম ইবনু মাজাহ, ইমাম আহমদ, তায়ালাসী, ইবনু হিব্বান, মুছান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, তাব্রানী ও ইবনু খুজাইমাহ সহ সকল মুহাদ্দিসীন ইবনু ফুজাইল, আব্দল্লাহ ইবনে ইদ্রিস, আব্দুল ওয়াহিদ, জুহার ইবনে মুয়াওয়ীয়াহ ও শু’বাহ যারা মুয়া’ম্মাল ইবনু ইসমাইল এর সাথী বর্ণনাকারী তাদের কারও বর্ণনায় এর উল্লেখ আসেনি। আল্লামা ইবনুল কায়্যিম (র) বলেছেন যে, একমাত্র মুয়াম্মাল ইবনু ইসমাইল ছাড়া আর কেউ علي صدره-‘বুকের উপর’ কথাটির বর্ণনা করেননি। দেখুন- ‘ই’লামুল মুওকিয়ী’ন’, ইলাউস সুনান২/১৯৬
  • আল্লামা ইবনু হাজার আস্কালানী (র) বলেছেন,  সুফিয়ান সাউরী থেকে বর্ণনাটি দুর্বল। ফাতুহুল বারি ২/২৩৯
  • ইমাম বুখারী (র) বলেছেন, মুয়াম্মাল ইবনু ইসমাইল এর হাদিস অগ্রহণযোগ্য, পরিত্যক্ত।
  • আবু হাতিম ও আবু জুরা’ বলেছেন মুয়াম্মাল ইবনু ইসমাইল ‘কাসিরুল খাতা’-অতি ভুলকারী।
  • ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান (র) বলেছেন যে মুহাদ্দিসগনের জন্য ওয়াজিব হল তার হাদিস থেকে বিরত থাকা। কারন তিনি অনির্ভরযোগ্য হাদিস বর্ণনা করেন।
  • শায়খ যাকারিয়া সাজী (স) বলেছেন, তিনি অতি ভুল্কারী, অতি সন্দেহ কারী।
  • মুহাম্মদ ইবনু আল মারওয়াজী (র) বলেছেন যে, যদি মুয়াম্মাল ইবনু ইস্মাইল একা বর্ণনা করেন তাহলে অবশ্য তার কাছ থেকে বিরত থাকতে হবে। কারন তিনি স্মরণ শক্তি লুপ্ত ও অতি ভুল্কারী।
  • ইবনে কানি’ (র) বলেছেন  মুয়াম্মাল ভুলে যাওয়ার দুষে অভ্যস্থ।
  • ইমাম আহমদ (র), ইবনে সা’দ এবং দারকুত্নী বলেছেন, মুয়াম্মাল ইবনু ইস্মাইল ‘অতি ভুলকারী’। সিলসিলতুছ ছাহিহা-২/৩৮৮
  • ইমাম সুফিয়ান সাউরী (র) এ হাদিসের সনদে রয়েছেন যিনি নিজে নাভীর নীচে হাত রাখার অনুসারী ছিলেন। তিনি কখনো বুকে হাত রাখেননি। তাহজিবুল কামাল ২৯/১৭৬-১৭৮

দলিল-৪

رأيت النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ينصرف عن يمينه وعن يساره ، ورأيته - قال - يضع هذه علىصدره . وصف يحيى : اليمنى على اليسرى فوق المِفصل

কাবীছাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, আমি মহানবী (স) ( নামাজের পরে) ডানে-বামে ফিরতে দেখেছি। এবং তিনি বলেন; আমি দেখেছি, এটি তিনি বুকের উপর রাখলেন এবং ডান হাত বাম হাতের জোড়ায় বাধলেন।  আহমদ - ৫/২৫৫

উক্ত হাদিসে শুধু ‘সিমাক ইবনু হারব’ একাই বুকের উপর হাত রাখার কথা উল্লেখ করেছেন যা  এ হাদিসের অন্যান্য বর্ণনাকারীদের কেউ এ কথা উল্লেখ করেননি। তাই দেখুন হাদিস বিশারদ্গন ‘সিমাক ইবনু হারব সম্পর্কে কি বলেছেনঃ

  • ইমাম নাসায়ী (র) ও ইমাম আলী ইবনু মাদিনী (র) বলেছেন সিমাক ইবনু হারব একা বর্ণনা করলে তা অগ্রহণযোগ্য
  • ইবনু হিব্বান (র) বলেছেন ‘অতি ভুলকারী’
  • ইমাম আহমদ (র) বলেছেন তার হাদিস সন্দেহযোগ্য
  • ইমাম শুয়বা তাকে দুর্বল বর্ণনাকারী আখ্যায়িত করেছেন
  • ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আম্মার আল মাওছীলি (র) বলেছেন যে, উনি ভুল করেন, সবিরোধী বর্ণনা করেজ
  • ইমাম আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আজলী বলেন যে, সুফিয়ান সাউরী (র) তাকে দুর্বল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন
  •  ইমাম ইবনে খাররাস বলেছেন, তার বর্ণনায় সমস্যা রেয়েছে
  • আব্দুল্লাহ ইবনুল মোবারাক (র) বলেছেন, তিনি দুর্বল বর্ণনাকারী
  • জারীর ইবনু আব্দুল হামিদ তার বর্ণনাকে অগ্রহণযোগ্য বলেছেন। কারন তিনি তাকে দাড়িয়ে প্রস্রাব করতে দেখেছেন
  • আল্লামা নিমভী (র) বলেছেন, ‘বুকের উপর’ কথাটি অতিরিক্ত ও অসংরক্ষিত। এ হাদিস অগ্রহণযোগ্য
  • সুফিয়ান সাউরী (র) এ হাদিসের সনদে রয়েছেন যিনি নাভীর নীচে হাত বাধার পক্ষে মত দিয়েছেন। সিলসিলাতুস সাহিহা- ২/২৮৬, ই’লাউস সুনান-২/১৯৪
  • আবু বকর ইবনে আবু খায়সামাহ, ইমাম ইয়াহ্ইয়া ইবনে মায়িন থেকে শুনেছেন সিমাক ইবনু হারবের দোষ হল; হাদিস সমূহের সনদে একাকি বর্ণনা করেন। অন্য কেউ এ সনদে বর্ণনা করেননা
  • উকাইলী তাকে দুর্বল বর্ণনাকারী বলেযাও
  • ইমাম দারুকুতনী তাকে ভুলে যাওয়ার দোষে শাব্যস্ত করেছেন
  • আহমদ ইবনে আব্দল্লাহ ইজলি ও ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ার ইক্রিমা থেকে হাদিসটি  ইজতেরাব রয়েছে বলে উল্লেখ করেজ
  • মুগ্লতাই ও সিমাক ইবনু একাকী বর্ণনা করলে তা গ্রহণযোগ্য নয় এবং
  • ছালিহ ইবনে মুহাম্মদ আল বাগদাদী দুর্বল বলেছেন। দেখুন- তাহজীবুল কামাল ১২/ ১১৮-১২১

দলিল-৫

من مرسل طاوس قال

كان رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يضع يده اليمنى على يده اليسرى ، ثم

يشد بهما على صدره وهو في الصلاة

তাউস (র) বলেন, তিনি নামাজের মধ্যে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখতেন এবং উভয় হাত বুকের উপর বাধতেনআবু দাউদ-৭৫৭

১। এই হাদিসটি মুরসাল, যারা কোন মাজহাবের অনুসারী নন তাদের কাছে মুরসাল হাদিস গ্রহণযোগ্য নয়।

২। আল্লামা নিমভী (র) এ হাদিসকে দুর্বল বলেছেন। সিলসিলাতুস ছহিহাহ- ২/২৯১

৩। এই মুরসাল হাদিসের বিপরীত আলী (রা) ‘নাভীর নীচে হাত বাধা’র হাদিস যা একে দুর্বল করে দিয়েছে।

৪। এই হাদিসে সুলাইমান ইবনু মুসা সম্পর্কে ইমাম বুখারী (র) বলেছেন ‘আপত্তিকর  বর্ণনাকারী’।

৫। ইমাম নাসাই (র) বলেছেন বর্ণনাকারী ‘অবিশস্থ’।

৬। শেখ আল্বানী বলেছেন, মুরছাল হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। দেখুন সিলসিলাতুছ ছাহিহাহ ২/২৯১

দলিল-৬

عن إبن عباس في قول الله عزوجل فصل لربك وانحر قال: وضع  اليم علي الشمال في الصلوت عند النحر 

ইবনু আব্বাস (রা) থেকে আল্লাহর কালাম فصل لربك وانحر সম্পর্কে বর্ণিত; তিনি বলেন, মহানবী (স) নামাজের মধ্যে ডান হাত বাম হাতের উপর দিয়ে বুকের কাছে বাধতেন। তাফসীর কুরতুবী।

১। এ হাদিসে বুকের কাছে হাত বাধার কথা রয়েছে। বুকের উপর হাত বাধা নয়

২। হাদিস বিশারদগন বলেছেন সনদের ‘রাওহ ইবনুল মুসায়ীব’ অগ্রহণযোগ্য

৩। ইবনু হিব্বান বলেছেন ‘রাওহ ইবনুল মুসায়ীব’ বিশস্থ বর্ণনাকারীদের নামে ‘মাওজু’ (জাল) হাদিস বর্ণনা করেন। সুতরাং তার হাদিস অগ্রহণযোগ্য

৪। ইবনু আদী (র) বলেছেন তার হাদিসগুলি অসংরক্ষিত

৫। আল্লামা ইবনু তারকুমানী (র) বলেছেন এই হাদিসটির সনদে ‘ইজতিরাব’ সমস্যা রয়েছে।

 ইলাউস সুনান-২/২০০

হে আল্লাহ, আমাদেরকে সরল-সঠিক পথ দেখাও! আমীন! 

 

Ramadan: Lessons for All Time

 


By Al-Istiqaamah Magazine
 
Monday, 29 August 2011 07:30
Mosque at night
No people gather in a house from the houses of Allah, reciting the Book of Allah and studying it amongst themselves, except that tranquility descends

Allah, The Most High, said:

"The month of Ramadan in which the Qur’an was revealed, a guidance for mankind and clear proofs for the guidance of the Criterion between right and wrong. So whosoever of you sights the crescent for the month of Ramadan, he must fast that month." (Al-Baqarah, 2:185)

Prophet Muhammad, peace be upon him, said:"

Islam is built upon five: Testifying that none has the right to be worshipped except Allah and that Muhammad is the Messenger of Allah, establishing the Prayer, giving the Zakah, performing Hajj to the House, and fasting in Ramadan." (Al-Bukhari and Muslim)

"There has come to you Ramadan, a blessed month, in which Allah has made it obligatory to fast. During it the gates of Paradise are opened and the gates of Hellfire are closed, and the rebellious devils are chained. In it is a night (Laylatul Qadr) which is better than a thousand months. He who is deprived of its good truly has been deprived." (An-Nasa’i)

From the many important lessons to be learnt from fasting are:

Taqwa

Fasting has been legislated in order that we may gain taqwa:

"O you who believe! Fasting is prescribed for you, as it was prescribed upon those before you in order that you may attain taqwa." (Al-Baqarah, 2:183)

Talq ibn Habeeb, may God have mercy on him, said: "When fitnah (trials and tribulations) appears then extinguish it with taqwa." So he was asked as to what taqwa was, so he replied: "Taqwa is to act in obedience to Allah, upon a light (i.e.Iman, faith) from Allah, hoping in the Mercy of Allah. And taqwa is leaving the acts of disobedience to Allah, upon a light from Allah, due to the fear of Allah."

This is one of the best definitions of taqwa. For every action must have both a starting point and a goal. And an action will not be considered as an act of obedience, or nearness to Allah, unless it starts from pure Iman (faith in Allah). Thus it is pure Iman – and not habits, desires, nor seeking praise or fame, nor it’s like – that should be what initiates the action. And the [goal of the] action should be to earn the reward of Allah and to seek His good pleasure."

Has this fasting made us more fearful and obedient to Allah?

So fasting is a means of attaining taqwa, since it helps prevent from many sins that one is prone to. Due to this, the Prophet said: "Fasting is a shield with which the servant protects himself from the Fire." So we should ask ourselves, after each day of fasting: Has this fasting made us more fearful and obedient to Allah? Has it aided us in distancing ourselves from sins and disobedience?

Nearness to Allah

The Prophet said:

"Allah said: Whosoever shows enmity to a friend of Mine, I shall be at war with him. My servant does not draw near to Me with anything more beloved to Me than the obligatory duties that I have placed upon him. My servant continues to draw nearer to Me with optional deeds so that I shall love him." (Al-Bukhari)

"Whosoever reaches the month of Ramadan and does not have his sins forgiven, and so enters the fire, then may Allah distance him."  (Musnad Ahmad)

So drawing closer to Allah, the Most Perfect, in this blessed month, can be achieved by fulfilling one’s obligatory duties; and also reciting the Qur’an and reflecting upon its meanings, increasing in kindness and in giving charity, in making du’as (supplication) to Allah, attending the tarawih prayer, seeking out Laylatul-Qadr (the Night of Power), a night which is better than a thousand months, attending gatherings of knowledge, and striving in those actions that will cause the heart to draw closer to its Lord and to gain His forgiveness.

Thus, our level of striving in this blessed month should be greater than our striving to worship Allah in any other month, due to the excellence and rewards that Allah has placed in it.

Likewise from the great means of seeking nearness to Allah in this month is makingI`tikaf (seclusion in the mosque in order to worship Allah) – for whoever is able.

Imam Ibn Al-Qayyim, may God have mercy on him, said: "Allah also prescribed I`tikaffor them, the objective being that the heart becomes fully preoccupied with Allah, concentrated upon Him alone, and cut-off from being preoccupied with the creation. Rather, the heart is only engrossed with God such that loving Him, remembering Him, and turning to Him takes the place of all the heart’s anxieties and worries, so that he is able to overcome them. Thus all his concerns are for Allah, and his thoughts are all directed towards remembering Him and thinking of how to attain His pleasure and what will cause nearness to Him and what leads him to feel contended with God instead of people. This in turn prepares him for being at peace with Allah alone, on the day of loneliness in the grave, when there will be no one else to give comfort, nor anyone to grant solace, except Him. So this is the greater goal of I’tikaf.”

Patience

With patience we are able to strengthen our resolve to worship Allah alone, with sincerity, and also cope with life’s ups and downs

Imam Ahmad, may God have mercy on him, said: "Allah has mentioned Sabr (patience) in over ninety places in His Book."

The Prophet said:

"The month of Patience and the three days of every month are times for fasting." (Ahmad and an-Nasa’i)

"O youths! Whoever amongst you is able to marry then let him do so; for it restrains the eyes and protects the private parts. But whoever is unable then let him fast, because it will be a shield for him." (Al-Bukhari and Muslim)

So fasting is a means of learning self-restraint and patience. With patience we are able to strengthen our resolve to worship Allah alone, with sincerity, and also cope with life’s ups and downs. So – for example – with patience we are able to perform our Prayers calmly and correctly, without being hasty, and without merely pecking the ground several times! With patience we are able to restrain our souls from greed and stinginess and thus give part of our surplus wealth in Zakah (obligatory charity).

With patience we are able to subdue the soul’s ill temperament, and thus endure the ordeal and hardships of Hajj, without losing tempers and behaving badly. Likewise, with patience we are able to stand firm and fight Jihad against the disbelievers, hypocrites and heretics – withstanding their constant onslaught, without wavering and buckling, without despairing or being complacent, and without becoming hasty and impatient at the first signs of hardship:

"O Prophet, urge the Believers to fight … So if there are one hundred who are patient, they shall overcome two hundred; and if there be one thousand, they shall overcome two thousand, by the permission of Allah. And Allah is with the patient ones." (Al-Anfal, 8:65-66)

Good Manners

The Prophet, peace be upon him, said:

"Whosoever does not abandon falsehood in speech and action, then Allah the Mighty and Majestic has no need that he should leave his food and drink." (Al-Bukhari)

"Fasting is not merely abstaining from eating and drinking. Rather, it is also abstaining from ignorant and indecent speech. So if anyone abuses or behaves ignorantly with you, then say: I am fasting, I am fasting."

These narrations point towards the importance of truthfulness and good manners. Thus, this blessed month teaches us not only to abstain from food and drink, but to also abstain from such statements and actions that may be the cause of harming people and violating their rights – since the prophet said describing the true believer:

"A Muslim is one from whom other Muslims are safe from his tongue and his hand." (Al-Bukhari)

Thus it is upon us as individuals, to examine the shortcomings in our character, and to then seek to improve them; modeling ourselves upon the character of the last of the prophets and messengers, and their leader, Muhammad, peace be upon him, aspiring also for the excellence which he mentioned in his saying:

"I am a guarantor for a house on the outskirts of Paradise for whoever leaves off arguing, even if he is in right; and a house in the centre of Paradise for whosoever abandons falsehood, even when joking; and a house in the upper-most of Paradise for whosoever makes his character good." (Abu Dawud and Al-Bayhaqi)

So by shunning oppression, shamelessness, harboring hatred towards Muslims, back-biting, slandering, tale-carrying, and other types of falsehood, we can be saved from nullifying the rewards of our fasting – as Allah’s Messenger said:

"It may be that a fasting person receives nothing from his fast, except hunger and thirst." (Ahmad and Ibn Majah)

Unity

Islam lays great importance in bringing hearts together and encouraging collectiveness. 

In this blessed month we can sense an increased feeling of unity and of being a single Ummah due to our fasting and breaking our fast collectively. We also feel an increased awareness about the state of affairs of the Muslims and of the hardships that they endure, because: "During the fast, a Muslim feels and experiences what his needy and hungry brothers and sisters feel, who are forced to go without food and drink for many days – as occurs today to many of the Muslims in Africa." (Sheikh Ibn Baz)

The Prophet said:

"Fast when they fast, and break your fast when they break their fast, and sacrifice the day they sacrifice." (At-Tirmidhi)

Imam At-Tirmidhi, may God have mercy on him, said: "Some of the People of Knowledge explained this Hadith by saying: Its meaning is to fast and break the fast along with the Jama`ah (congregation) and the majority of people."

Indeed, the unity of the Muslims; their aiding and assisting one another, is one of the great fundamentals upon which the Religion of Islam is built:

"And hold fast altogether to the rope of Allah and do not be divided." (Al `Imran, 3:103).

"The Believers- men and women - are friends and protectors of one another."(Al-Tawbah, 9:44)

Thus we see that Islam lays great importance in bringing hearts together and encouraging collectiveness. This is not only reflected in the month of Ramadan, but also in the other acts of worship as well.

So, for example, we have been ordered by the Prophet to pray the five daily Prayers in congregation, and that its reward has been made twenty-seven times the reward of praying it individually. (Al-Bukhari and Muslim)

Likewise, this similar collective spirit is demonstrated in the act of Hajj (Pilgrimage). Even in learning knowledge and studying it, blessings have been placed in collectiveness, as Allah’s Messenger said:

"No people gather in a house from the houses of Allah, reciting the Book of Allah and studying it amongst themselves, except that tranquility descends upon them, mercy envelops them, the angels surround him, and Allah mentions them to those that are with Him." (Muslim)

Even in our everyday actions such as, eating, Islam teaches us collectiveness. Thus, when some of the companions of the Prophet said to him:

O Messenger of Allah, we eat but to do not become satisfied.

He replied: "Perhaps you eat individually?"

They replied: Yes!

So he said: "Eat collectively and mention the name of Allah. There will then be blessings for you in it." (Abu Dawud)

Thus, Ramadan is a time to increase our sense of unity and brotherhood, and our commitment to Allah and His religion. And there is no doubt that this sense of unity necessitates that: "We work together as required by Islam as sincere brothers – not due to bigoted party spirit, nor sectarianism – in order to realize that which is of benefit to the Islamic Ummah and to establish the Islamic society that every Muslim aspires for – so that the Shari’ah of Allah is applied upon His earth."

So we must examine ourselves during Ramadan and ask: What is my role – and each of us has a role – in helping this precious Ummah to regain its honor, and return to the Ummah its comprehensive unity and strength, and victory that has been promised to it? Likewise, we should reflect upon our character and actions and ask: Are they aiding the process of unity and brotherhood, or are they a harm and a hindrance to it?

So we ask Allah to grant us the ability to change ourselves for the better, during this blessed month, and not to be of those who are prevented from His mercy and forgiveness. Indeed He is the One who hears and He is the One to respond.

 
 
 
 
 
Source: Islaam.com - http://www.islaam.com

The Medina Charter serves as an example of finding resolve in a dispute where peace and pluralism were achieved not through military successes or ulterior motives but rather through respect, acceptance, and denunciation of war ..
Audio Medina Charter of Prophet Muhammad and Pluralism

Medina Charter of Prophet Muhammad and Pluralism

The original Madina Charter document does not exist but the most widely read version of the Constitution is found in the pages of Ibn Ishaq's Sirah Rasul Allah (For English translation of the full text see wikisource),

The clash of civilizations, cultures, tribes, and religions seems to be prevalent throughout all of history. At the same time, history reveals simultaneous conflict and efforts to resolve tensions and division feeding animosity through mediation, diplomacy, and dialogue. Many conflicts seem too complicated for an agreement to be established on just one point, whether or not the conflict revolves around territory, religion, or ethnic discrimination. So what approach is best to mediate issues in a contemporary world that seems to be driven by economics, natural resources, and ethnic or religious ideologies? The Medina Charter serves as an example of finding resolve in a dispute where peace and pluralism were achieved not through military successes or ulterior motives but rather through respect, acceptance, and denunciation of war - aspects that reflect some of the basic tenets of the religion Prophet Muhammad, peace be upon him, was guiding and promoting. Through an examination of the Medina Charter, I will show how pluralism was advanced and instated in Medina and the reasons reflecting on such a document could help avoid the divide and misunderstanding plaguing much thought, rhetoric, and media today between Muslims, Christians, and Jews all over the world.

When the Prophet was forced to immigrate to Medina, the population was "a mixture" (akhlat) of many different tribes (predominantly Arabic and Jewish), who had been fighting for nearly a century, causing "civil strife," and it was for this reason that the Prophet was summoned there (Peters 1994, 4). Tribal fighting and a lack of governance in Medina (known as Yathrib) meant disputes were dealt with "by the blade" on many occasions, which deepened the divides and fueled conflicts. Karen Armstrong explains aptly the mentality and workings of the tribal system dispersed through war-torn Arabia, where the Prophet was striving for peace (Armstrong 2006, 19). "The tribe, not a deity, was of supreme value, and each member had to subordinate his or her personal needs and desires to the well-being of the group and to fight to the death, if necessary, to ensure its survival" (Armstrong 2006, 24). Such a system was, in a political sense, representative of the little cooperation between the tribes in the Yathrib. In this region reigned power hungry strategies, an emphasis on arms and strength in military, and a belief that clearly mediation was unachievable except by a trustworthy outsider who had no connections to the issues or the tribes. Not only did the Prophet fit these prerequisites, but his personal ambition as given to him by God was also one of spreading peace and unity, creating a community, or ummah, made up of diverse groups, through the teachings of the Quran and in the name of Islam.

The Quran states that the Lord "teaches by the pen" (96:1-5). This is indicative of the Medina Charter in that it is a reflection of these verses, which show that God is educating people and changing thought patterns through discussion. In this case, the discussion resulted in peace achieved through contemplation and through seeking agreements in which tribes felt they had benefited from the charter and had not been robbed of status or unresolved antagonism from the past. "Many Islamic rituals, philosophies, doctrines, [different interpretations of] sacred texts, and shrines are the result of frequently anguished and self-critical contemplation of the political events in Islamic society" (Armstrong 2006, 14). Islam places great emphasis on reason - the reasoning of the universe, of life, and indeed, of religion too. Al-Ghazzali (1058-1111) said, "Doubt is to find truth. Those who do not have doubt cannot think. Those who cannot think, cannot find truth." Although this quote is more in reference to the philosophical side of Islam, it reverberates from the heart of reason - something that is central to Islam. Yetkin Yildirim writes about the use of one's own knowledge and the absolute approach of reason. If the answer is neither in the Quran, Sunnah, or Hadith, then one's own reasoning or ijtihad is required (Yildirim 2006, 109-117). So the Prophet, through the Medina Charter, was practicing Islam through action. For with reason, discussion, and contemplation, a peace treaty was created.

Quba Mosque in Madina. Considered to be the first Mosque in Islam. Date of photo unknown

The mere formation of the Charter and peace were tremendous feats, and the content of the Charter itself reflects this magnitude. The formation of an ummah through respect and acceptance resulting in pluralism shows us one of the ways in which the Prophet combated jahiliyyah, or ignorance - the state of mind causing violence and terror (Armstrong 2006, 19). Examining some of the clauses in the Charter also shows how the Prophet managed to take leadership and create a lasting peace. The first clause, "They are a single community (ummah)," (Sajoo 2009, 94) depicts the ultimate message and goal of the rest of the charter. It marked the creation of a community, and the Charter served as a unifying document in a city of diverse groups, cultures, religions, and languages. The Prophet came to Medina with tolerance - an aspect of Islam which is fundamental to the manner in which the religion operates in foreign lands. "It is for this tolerance in the Islamic view that Muslims have looked at the religion of the people in the lands they conquered with respect; they did not intervene with their beliefs nor touch their churches" (Can 2005, 172). Clause 25 epitomizes the level of tolerance in the charter and also serves as an example of Islam in practice. "The Jews ... are a community (ummah) along with the believers. To the Jews their religion (din) and to the Muslims their religion" (Sajoo 2009, 96) This statement ties in with the verse from the Quran (2:256) which says, "There is no compulsion in religion." For in the eyes of God, as it says in the Quran "... those who believe ... Jews, Christians, and Sabaeans ... and does right - surely their reward is with their Lord" (2:62).

The Medina Charter reflects pluralism both in the content and in the history of the document. F. E. Peters explains that "the contracting parties, although they did not embrace Islam, did recognize the Prophet's authority, accepting him as the community leader and abiding by his political judgments" (Peters 1994, 199). As there is no account of an uprising in history books and because the Prophet was there at the suggestion of the tribes, we know that he was never rejected. Because of the laws he introduced, the existing groups clearly did not feel threatened by his new presence or his new governance. The society was pluralistic, and it was not repressive. The Prophet - as clause 25 shows - never imposed Islam upon the people of Medina, which meant that they could still practice without disruption their religions and customs, aspects of life that were important to them. He did not create an ummah through denouncing all ways of life except for Islam or by recognizing Islam as the singular religion; instead he united all inhabitants of the city under one banner of ethical living and moral principles - commonalities between all humans and all religions.

The Prophet drew upon the essence of unity, respect, tolerance, and love to combine and create a pluralistic community. Clause 40 exemplifies this: "The 'protected neighbor' (jar) is as the man himself so long as he does no harm and does not act treacherously" (Sajoo 2009, 97). People were safe and respected and free to exert their beliefs and would be protected in doing so. This protection, however, could not shield them from treachery or wrong doing.

The Medina Charter is arguably the first constitution ever written incorporating religion and politics (Yildirim 2006, 109-117). And even though the politics of the region have changed since it was written - in recent times for the worst - Islam's values have continued to spread and are lived throughout the whole Muslim world. Despite the hold of power that some governments still have over their people, the true face of Islam shines through in how people live, communicate, and approach life. I speak from personal experiences when I traveled through Iran, Turkey, and Northern Iraq in January, 2009. And despite what the media had to say about the people in those lands, my time there was spent in the houses of complete strangers, who showered me with hospitality that transcended any I had experienced before. Although the governing body has changed, the points of the Medina Charter and tenets of Islam preached by Prophet Muhammad still exist amongst the people. My heritage was accepted with curiosity and respect - just as the Prophet implemented in Medina between the tribes. My place in the society was welcomed with honest enthusiasm, and I felt a part of a community - like the community that Prophet implemented in Medina. I was exposed to mainstream Islam, which we hear so little about in the West due to the confusion which unjustly joins Islam and extremism together. I saw tolerant Muslims who saw me as another person who wanted peace and respect - not treachery. This is what the Prophet also accomplished in Medina - a community which was not based upon religion or ethnicity but one built on unity and acceptance. One built on tolerance. One built on peace. It seems the Prophet was aware that spirituality and faith cannot be governed, and for this reason alone, he sought unity and respect as opposed to discriminating between tribes and their beliefs.

In contemporary times, an analysis of the Medina Charter can give us insight into Islam and religious pluralism (Sachedina 2001). Medina marked the first real occurrence of coexistence between religions and groups in Islam and mirrors the Quran which "in its entirety provides ample material for extrapolating a pluralistic and inclusive theology of religions" (Sachedina 2001, 26). The Quran is the unquestionable and the absolute; therefore, it is the key to understanding religious pluralism in Islam. Clause 39 of the Medina Charter says, "The valley of Yathrib is sacred for the people of this document" (Sajoo 2009, 97). And so too is the universe, which is sacred to all of humanity. The Quran reveals that "the people are one community" (2:213), so if we are one (which we are) in the world, in the universe, then regardless of religion, it is God's mercy and compassion which will save us. By differentiating between beliefs, we neglect that under one sun we all pray to a greater entity, a greater being. We were all created by God, so unity seems imperative and practical.

The Medina Charter is very relevant to current tensions existing between the Muslims, Jews, and Christians. Unfortunately, it seems that ignorance and fear, suspicion and disrespect plague the interaction and stereotypes that exist between these three great Abrahamic religions. In the post-September 11th era, a new wave of antagonism has arisen, and people around the Western world generally fear Islam. Sadly, people confuse the actions of nationalists and fundamentalists, who so unjustly hide behind a Holy Book claiming that their intentions are those of God, with what the actual religion promotes. As Rumi believed, the essence of all religions is the same, for they all teach love. The deep philosophical and even deeper spiritual teaching of Rumi is based on a state of mind that seeks mutual vision and dialogue, which I hope will be achieved one day, breaking down the polarized world of different religious thought. Another verse of the Quran emphasizes this need for dialogue, unity, and tolerance: "Surely this community of yours is one community, and I am your Lord; so worship Me" (21:92).

The Prophets action's in Medina prompt us to use reason in our approach to the wide, diverse beliefs of the world - from Europe to Asia, North, Central, and South America to Africa and everything in between. It prompts us to understand how "the spiritual space of the Quran [...] was shared by other religions" (Sachedina 2001, 23). Such an understanding reveals that Islam is a monotheistic religion that respects the rights of other faiths (Stewart 1994, 207). In a globalized world where we are connected so easily, unlike any other period in history, our mutual understanding of one another and our beliefs are the most important means to achieve peace and stability. It is in a contemporary sense, in a globalized world, that the Medina Charter is of such necessity. Inter-religious discussions took place with the Prophet in Medina, for Boase writes about a time when Christians performed their prayers in a mosque after a meeting with the Prophet during their visit (Boase 2005, 252). We can learn how in every country, a community, an ummah, is the single most effective way to produce a pluralistic state. The Medina Charter was a fusion of attributes which all world religions teach: peace, love, freedom, acceptance, and tolerance - resulting in stability.

Peace was achieved in Medina, not through the might of arms or the scale of wealth, but through the unyielding principles of Islam - tolerance, love, reason, and a belief in God - whether the God in the Bible, the Quran, or the Torah. The Medina Charter, arguably the first charter ever written, shows that Islam rejects the use of compulsion in religion and violence and that over centuries of human existence, the most effective way to resolve conflicts comes through mediation. The Medina Charter is an example that should be discussed and referred to in current conflicts. The creation of a community, or ummah, offers pluralism to everyone. For people are not judged on their beliefs, but on their actions. Persecution is the instigator of all tensions, and reason and tolerance is the essence of all peace. Just as in the streets of Medina, through tolerance and respect, we too may one day have a world-wide ummah, where a passing Christian will say, "Peace be upon you" to a Muslim, who will reply, "Peace be upon you too."

Source: The Fountain Magazine

Planned & Current Activities

(1)NYC BOARD OF EDUCATION COMPLIANT FULL TIME ISLAMIC SCHOOL.

(2)THREE FLOOR HUGE JAME MASJID.

(3)REGULAR HIFZUL QURAN PROGRAM.

(4) REGULAR WEEKEND ISLAMIC SCHOOL.

(5)REGULAR SUMMER ISLAMIC SCHOOL PROGRAM.

(6)ISLAMIC EDUCATION FOR ADULTS.

(7)PERMANENT LADIES PRAYER SERVICE FACILITY.

(8)SPECIAL EDUCATION FOR SISTERS.

(9)DA,WA SERVICES FOR NON MUSLIMS.

(10)MARRIAGE SERVICES.

(11)ISLAMIC SEMINAR & TAFSIRUL QURAN PROGRAM.

(12)DUROOSUL QURAN & DUROOSUL HADITH.

(13)FUNERAL SERVICES.

(14)COMMUNITY SERVICES.

(15)INTERNATIONAL ISLAMIC LIBRARY FOR MUSLIM & NON MUSLIMS.

(16)FREE HALAL FOOD SERVICES &DISTRIBUTING COPIES OF HOLY QURAN FOR NON MUSLIMS.

(17)ANNUAL INTERNATIONAL GATHERING OF SCHOLARS FOR THE UNITY OF MUSLIM UMMAH.

(18)INTERFAITH DIALOGUE &CONFERENCE HALL ROOM.

(19)SPECIAL SERVICES FOR RAMADAN &OTHER HOILDAYS.

(20)OBSERVATION OF ALL ISLAMIC EVENTS.

 

Islamic Articles

 

 

IslamiCity.com - Islam & The Global Muslim eCommunity

 

sultan.org free islamic books

The following Islamic articles were written by various Islamic Scholars.

 

Click here to make your donation now.
Copyright © Assafa Islamic Center, Inc. | Webdesign & Green Hosting By: Avurt.com